নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার।। কথা থাকলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাজশাহী বাঘা উপজেলার কলেজ ছাত্র হিমেলের (১৮) প্রায় আটমাস আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের রামদায়ের কোপে বাম পা হারান হিমেল নামের এক কলেজ ছাত্র। এরপরেই জীবনের সবকিছু বদলে যায় তার।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী তার ব্যাক্তিগত অর্থায়নে পঙ্গু হিমেলের জন্য উপহার হিসেবে দেন একটি কৃত্রিম পা।
দুঃসহ সেই স্মৃতিটা আজও টাটকা কিশোর হিমেলের কাছে। সেদিন ছিল ২০২২ সালের ১৮ মে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার এবং তার বাবা মোকাররম হোসেনের উপর রামদা হাতে হামলা চালায় প্রতিবেশী জেনরাল নামক ব্যক্তি। বাঁচার জন্য বাবা-ছেলে দুজনে দৌড়ে পালাতে চেয়েছিলেন কিন্তু হোচট খেয়ে মাটিতে পরে যাওয়া বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে রামদার কোপে মারাত্মক জখম হয় তার বাম পা। এরপর কেটে ফেলতে হয় সেই পা।
এত দিন ক্রাচে ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিলো এই কলেজ ছাত্রের দূর্বিষহ জীবন। দেয়া হয়নি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড কেন্দ্রে (সিআরপি) তাঁর কৃত্রিম পা সংযোজন হয়েছে।হিমেলের জীবন বদলে দেওয়ার পেছনে ছিল বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আহমেদের অবদান। দীর্ঘদিন ব্যায়বহুল চিকিৎসা সেবা গ্রহণের কারণে আর্থিক ভাবে অনেকটাই দূর্বল হয়ে পরেছিলো পরিবারটি। আর তখনই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আহমেদ।
এসময় প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আহমেদ বলেন আমার হিমেলরা আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছেলেটির একটি পা হারাতে হয় খবরটি শোনার পর থেকেই আমি তার পরিবারের সাথে কথা বলে তার খোঁজ খবর রেখেছি। তরুণ একটি ছেলে যে কিনা এখনো কলেজের গন্ডি পেরুতে পারেনি তার এমন অসামান্য ক্ষতি সত্যিই মেনে নেয়া কষ্টকর।
দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আজকে ছেলেটির জন্য একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেছি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কিংবা সমাজের একজন দায়িত্ববান ব্যাক্তি হিসেবে এধরণের সহযোগিতা এবারই প্রথম নয়। সমাজের সকলেরই উচিৎ এধরণের কাজে এগিয়ে আসা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো। আর এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছে সিআরপি। প্রতিদিন এ ধরনের প্রায় হাজার খানেক মানুষ এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পরবর্তী সেবা গ্রহণের জন্য আসছে এটি সত্যিই দারুণ প্রশংসনীয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দীপক চন্দ্র সাহা ও সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি’র) বিভিন্ন চিকিৎসকসহ প্রমুখ।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/রাজু